শেয়ার কেনাবেচায় অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ ও অর্থ স্থানান্তর নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন, যেখানে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের ভূমিকাও যাচাই করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক কিছু লেনদেন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম মেনে না চলেই শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে বিধিমালার পরিপন্থী। বিশেষ করে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের কিছু শেয়ার ১৫.৮৮ টাকা এমনকি ২৮৯.৪৮ টাকায় কেনা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মূল্য ব্যবধান স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। তাদের ধারণা, এমন লেনদেন শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; বরং অর্থপাচারের সম্ভাবনাও নির্দেশ করে।
এই সন্দেহের প্রেক্ষিতে কোয়েস্ট বিডিসি থেকে প্রায় ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খায়রো কেয়ারের কাছে স্থানান্তরের ঘটনাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিষয়টিকে মানি লন্ডারিংয়ের সম্ভাব্য ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান, একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকরা।
এবার তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভেতরের কেউ এই অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে আসছেন, বাজারে অনিয়মের পেছনে কখনো কখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভেতরের সহযোগিতাও থাকতে পারে। যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বাজারে আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু নিয়ম প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিনিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই তদন্তের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বাজারে দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা কিছুটা হলেও কাটতে পারে।

