চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতিতে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেলেও প্রকৃত অর্থছাড় কমেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সর্বশেষ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
ইআরডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে মোট ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এবার প্রায় ১৩ কোটি ডলার বেশি প্রতিশ্রুতি এসেছে।
সংস্থাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), যার পরিমাণ ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), যারা প্রায় ৪১ দশমিক ৬২ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রধান কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ—জাপান, ভারত, চীন ও রাশিয়া—এই সময়ে কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
একইভাবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকেও নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি আসেনি। অন্যান্য দেশ ও সংস্থা মিলিয়ে মোট ৭৪ দশমিক ৫১ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ঋণ প্রতিশ্রুতি না থাকলেও বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থছাড় অব্যাহত রয়েছে। প্রথম আট মাসে মোট ৩ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে এ খাতে কমতির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দেশভিত্তিক অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে রাশিয়া শীর্ষে রয়েছে, তারা দিয়েছে প্রায় ৭৫ দশমিক ৫১ কোটি ডলার। এছাড়া ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ৬৩ দশমিক ৬ কোটি, এডিবি ৫৬ দশমিক ৬১ কোটি, এআইআইবি ৪ দশমিক ১৫ কোটি, জাপান ১৮ দশমিক ৯৩ কোটি, ভারত ১৫ দশমিক ২৮ কোটি এবং চীন ২৫ দশমিক ৭৭ কোটি ডলার ছাড় করেছে। অন্যান্য উৎস থেকে এসেছে আরও ৪৫ দশমিক ৪২ কোটি ডলার।
এই সময়ের মধ্যে সরকার মোট ৪৮টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে ১৭টি ঋণ এবং ৩১টি অনুদান সংক্রান্ত। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি, মোট ১৬টি অনুদান চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি হয়নি। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিশ্রুতি বাড়লেও অর্থছাড় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে।

