মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। গত এক মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮৯৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই সময়ে সীমিত পরিসরে ১,২৮৯টি ফ্লাইট পরিচালিত বা নির্ধারিত ছিল, যা বিমান চলাচলে অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতির মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া। এর মধ্যে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান উল্লেখযোগ্য।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়—যা এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সর্বশেষ ১ এপ্রিল রাতের পর আরও ১৮টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি আকাশপথ। বিশেষ করে মাসকাট, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী কিছু ফ্লাইট সীমিতভাবে চালু রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দিনে ৩০ থেকে ৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে জরুরি যোগাযোগ বজায় থাকে।
এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের শ্রমবাজার, প্রবাসী যাত্রী চলাচল এবং এয়ারলাইন্স খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে যাত্রী চাপ বেশি থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পুরোপুরি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর। দ্রুত সমাধান না হলে ফ্লাইট কার্যক্রমে এই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

