সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর নেতৃত্বে এ ওয়াকআউট করা হয়। জানা গেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও বিষয়টির কোনো সুনির্দিষ্ট নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন ত্যাগ করেন তারা।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলকে ওয়াকআউট না করে সংসদে উত্থাপিত অন্য একটি নোটিশের আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সেই আহ্বানে সাড়া দেননি বিরোধীদলীয় নেতা।
অনির্ধারিত আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে তার আগের বক্তব্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান। সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
তিনি বলেন, এটি জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতের প্রশ্ন জড়িত। এ বিষয়ে স্পিকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করলেও তা স্পষ্ট হয়নি। ফলে জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর জবাবে স্পিকার বলেন, আগের দিনের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব, যা সংসদের নিয়ম অনুযায়ী গৃহীত হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে এ ধরনের প্রস্তাব খুবই বিরল এবং সাধারণত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনা হয় না।
স্পিকার আরো বলেন, বিরোধী দলকে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়ার জন্যই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে আরো আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বিরোধী সদস্যদের ধৈর্য ধরে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, নতুন নোটিশ আনার মাধ্যমে মূল বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক ছিল না। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য কোনো বিষয় মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় আনা যায় না এবং এ ধরনের প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির সুযোগও নেই।
তিনি আরো বলেন, স্পিকার বিরোধী দলকে আলোচনার সুযোগ দিয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন, তবে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়।
এরপর স্পিকার দিনের পরবর্তী কার্যসূচি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

