এপ্রিল মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। তবে বাস্তব বাজারে এই দামের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো খুচরা বিক্রেতাদেরই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকায়, ফলে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিইআরসি ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার বেশি দামে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বাজারে এলপিজির সরবরাহও সীমিত। অধিকাংশ দোকানে মূলত ওমেরা ও বিএম ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে, অন্য কোম্পানির সরবরাহ তুলনামূলক কম।
মোহাম্মদপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, তাদের ওমেরা সিলিন্ডার কিনতেই খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ টাকা, যা বিক্রি করতে হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে বনশ্রীর এক ব্যবসায়ী বলেন, ডিস্ট্রিবিউশন থেকে এলপিজি কিনতে প্রায় ১ হাজার ৮৭০ টাকা খরচ হচ্ছে। কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, দাম আরও কয়েক দফা বাড়তে পারে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে এলপিজির আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সৌদি আরামকোর রেট বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে স্থানীয় বাজারে। একই কারণে বিইআরসিও দাম সমন্বয় করেছে।
সরকারি দাম নির্ধারণের পরও বাজারে তার প্রতিফলন না থাকায় ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সরবরাহ সংকট ও বাড়তি দামের কারণে এলপিজি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।

