জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তাই সময়সীমা বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা চালানোর সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সম্প্রতি নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব দোকান, শপিংমল ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকাল ৯টার পরিবর্তে দোকান দেরিতে খুললেও তারা আপত্তি করবে না, কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ প্রয়োজন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান জানান, জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭০ লাখ দোকান মালিক এবং প্রায় আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
এর আগে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী সংগঠন নিজেরাই রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকারি নির্দেশনায় সময় আরও কমিয়ে সন্ধ্যা ৬টা নির্ধারণ করায় তারা নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এদিকে, একই প্রেক্ষাপটে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়ও এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংকিং লেনদেন হবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক বন্ধ হবে বিকাল ৪টার মধ্যে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।

