মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের সাশ্রয় কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি অনিশ্চয়তার মধ্যে টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাশ্রয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি খাতে ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কম নেবেন। পাশাপাশি আপাতত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত ঋণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদেশে প্রশিক্ষণও স্থগিত করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় অর্ধেকে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং আয়োজন ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে। সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি নতুন করে গাড়ি, জলযান, উড়োজাহাজ বা কম্পিউটার কেনা বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির ব্যবহারও ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
শুধু সরকারি খাত নয়, সারা দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে এবং প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। তবে এই সাশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেচ, সার উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছে সরকার।

