দেশে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জরুরি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও গ্যাসোলিন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে উন্নত মানের ডিজেল এবং গ্যাসোলিন আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট মানসম্পন্ন বিপুল পরিমাণ ডিজেল এবং উচ্চমানের গ্যাসোলিন, যা দেশের পরিবহন ও শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া একই অঞ্চলের আরেক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকেও নির্ধারিত মানসম্পন্ন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাজাখস্তানের একটি জ্বালানি কোম্পানির কাছ থেকেও হাই স্পিড ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহকে আরও শক্তিশালী করবে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। এর ফলে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত আমদানির সিদ্ধান্তকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে জ্বালানি সংগ্রহ সম্ভব হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্পখাতে জ্বালানি ঘাটতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

