দেশে অবৈধ গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নির্যাতন বন্ধ করতে হলে সমন্বিত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি—এমন মত দিয়েছেন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের মধ্যে বিরোধ নয়, বরং সহযোগিতার ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান সম্ভব।
গতকাল রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত “বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ও হেফাজত: প্রেক্ষাপট ও আইনগত বিশ্লেষণ” শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যমান আইন থাকলেও তার প্রয়োগ দুর্বল। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার, বিচারিক তদারকির অভাব, রিমান্ডের অপব্যবহার, নির্যাতনবিরোধী আইন বাস্তবায়নে ঘাটতি এবং অবৈধ আটক ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার মতো সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র একটি রায় বা আইনের সংশোধন দিয়ে পুরো বিচারব্যবস্থার সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এক জায়গায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে অন্য জায়গায় অপব্যবহার দেখা দিতে পারে। দেশে একটি “জামিন-নির্ভর অর্থনীতি” তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যা সংস্কারের দাবি রাখে।
ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজমুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, অনেক সময় সংস্কার কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবায়নে গুরুত্ব কম দেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, বিচার বিভাগ, পুলিশ বা সরকারকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই মানবাধিকারভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অবৈধ গ্রেপ্তার ও হেফাজতের ভুক্তভোগীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, এমন ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা করতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আলোচকরা আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও বাস্তব প্রয়োগ এখনো দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক মূল্যায়ন অনুপস্থিত থাকে।
তারা গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার—যেমন বডি ক্যামেরা—চালুর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ এবং আদালতের আদেশ কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দেন। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের আইন বিভাগের পরিচালক মো. বরকত আলী।

