জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের এই সংসদ। তাই জুলাই যোদ্ধাদের দাবির বিষয়ে সরকারকে আরও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
একইসঙ্গে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ‘সংস্কার পরিষদ’ নয়, বরং সংবিধানের রীতিনীতি মেনেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক উত্থাপিত একটি মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা আহত হয়েছেন এবং অনেকে জীবন দিয়েছেন। তাদের অবদানের কারণেই বর্তমান সংসদের অবস্থান, ফলে তাদের সঙ্গে আচরণে আরও সহনশীলতা প্রয়োজন।
৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় একটি ‘আধা-সাংবিধানিক’ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত হলে কী করণীয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, এ দুটির মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধানের ভেতর থেকেই এবং সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর বাইরে গিয়ে ভিন্ন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি এবং এটিকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আইন না বুঝে গণভোট ও সংবিধান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সমালোচনা করে তিনি একটি রূপক উদাহরণ তুলে ধরেন। তার মতে, আইনের সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝে দাবি তোলা অযৌক্তিক।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে পার্থ বলেন, ‘আপনারাই একমাত্র জুলাইয়ের টেন্ডার নিয়েছেন—বিষয়টি এমন নয়। তিনি জানান, সরকার গণভোটের প্রতি আস্থা রাখে এবং জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে সংবিধানের ভেতর থেকেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ সংবিধান টিকে থাকতে পারে না। তাই জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ প্রক্রিয়ায় সবাইকে সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

