অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশেক-ই-রসুল সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। আবেদনে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
পটভূমিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে। এতে কমিশনের গঠন, নিয়োগ ও মেয়াদসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়। অধ্যাদেশের ৬ নম্বর ধারায় চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ, মেয়াদ ও পদত্যাগের বিধান রয়েছে। ৭ নম্বর ধারায় শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
এই বিধান অনুসারে ৫ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিশনের চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে রিটে অধ্যাদেশের ৬ ও ৭ ধারা এবং ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রথম অধ্যাদেশ জারি হয় ২০০৭ সালে। পরে ২০০৯ সালে এটি আইনে রূপ পায়। তখন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭০ বছর, যা পরে বাড়িয়ে ৭২ বছর করা হয়। কিন্তু নতুন অধ্যাদেশে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং ইচ্ছামতো ব্যক্তি নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন, তথ্য কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ৭০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয় না।
রিটে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশের ৭ নম্বর ধারায় বাছাই কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ মানবাধিকার কমিশনের কাজের মধ্যে সরকারি সংস্থা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়োগ সুপারিশকারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।
এসব কারণেই সংশ্লিষ্ট ধারা ও নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

