বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় নতুন করে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ সরকার। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি কেনা এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক সফর বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শুধু বিদেশ ভ্রমণ নয়, সরকারি খাতে যানবাহন কেনাও পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য যে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হতো, সেটিও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি এবং ভ্রমণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এসব খাতে ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যায়।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপে পড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন এই নির্দেশনাও তারই অংশ, যার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে সরকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে। বিদেশ সফর থেকে শুরু করে গাড়ি ও প্রযুক্তি খাতে খরচ কমানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও কঠোর আর্থিক ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

