বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার যে বড় স্বপ্ন একসময় দেখানো হয়েছিল, আজ তারই এক ব্যয়বহুল প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেনা দেড় লাখ ইভিএম এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য কার্যত এক অচল সম্পদ। প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এসব যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, নির্বাচনেও আর ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সেগুলো সরিয়েও ফেলা যাচ্ছে না। ফলে যন্ত্রগুলো এখন শুধু গুদামে পড়ে আছে, আর মাসে মাসে বাড়িয়ে দিচ্ছে সরকারি ব্যয়।
ঘটনাটি শুধু একটি যন্ত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের সরকারি কেনাকাটা, পরিকল্পনাহীন ব্যয়, দুর্বল জবাবদিহি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সীমাবদ্ধতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ব্যবহার অযোগ্য, আবার অপসারণও সম্ভব নয়
নির্বাচন কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো—ইভিএমগুলো আর কোনো কার্যকর কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়, কিন্তু সেগুলো ধ্বংস করাও এখন সহজ নয়। কমিশন চাইলেও যন্ত্রগুলো পুড়িয়ে ফেলতে পারছে না। কারণ, এই ইভিএম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত চলছে, এমনকি মামলা পর্যন্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অডিট আপত্তিও রয়েছে।
অর্থাৎ, ইভিএমগুলো রেখে দিলে খরচ বাড়ছে, আর ফেলে দিতে গেলেও নতুন আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা আছে। এটাই নির্বাচন কমিশনকে এক ধরনের নীতিগত অচলাবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।
পরিবেশগত ঝুঁকিও কম নয়
ইভিএম শুধু একটি সাধারণ যন্ত্র নয়; এর ভেতরে ব্যাটারি, সার্কিট বোর্ড, মেমরি চিপসহ নানা ইলেকট্রনিক উপাদান রয়েছে। তাই এগুলো উন্মুক্ত স্থানে পুড়িয়ে ফেলা হলে বায়ুদূষণ হতে পারে। অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখলেও মাটি দূষণের ঝুঁকি থাকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এমন যন্ত্র পুড়িয়ে ফেলার আগে যথাযথ ছাড়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি।
এখানে একটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে—যখন এত বড় পরিসরে ইভিএম কেনা হয়েছিল, তখন কি এর পুরো জীবনচক্র নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল? অর্থাৎ, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবহার-পরবর্তী অপসারণ—এসব কি আগে থেকে ভাবা হয়েছিল? বাস্তবতা বলছে, হয়নি।
কেনা হয়েছিল নির্বাচনের জন্য, এখন গুদামই একমাত্র ঠিকানা
দেড় লাখ ইভিএমের মধ্যে ৭০ হাজার ২০২২ সাল থেকে দেশের ৪১ জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলো রাখতে প্রতি মাসে ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আর বাকি ৮০ হাজার ইভিএম রাখা হয়েছে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) আধুনিক ওয়্যারহাউসে, যেখানে ২০১৯ সাল থেকে সংরক্ষণ চলছে।
জেলা পর্যায়ে সংরক্ষিত ৭০ হাজার ইভিএমের জন্য প্রতি মাসে ৩৩ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিএমটিএফ ওয়্যারহাউস ব্যবহারের জন্য মাসিক প্রায় ১ কোটি টাকা ভাড়া দাবি করেছে। পাঁচ বছরে এ বাবদ ৭২ কোটি টাকা ভাড়া দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চিঠি চালাচালি করেও এ সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে বকেয়া বাড়ছেই।
এখানে সমস্যা কেবল টাকা খরচ হওয়া নয়; সমস্যা হলো, এটি এমন এক খরচ যার বিনিময়ে এখন কোনো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ফল মিলছে না। নির্বাচন হচ্ছে না, ভোটগ্রহণে ব্যবহার হচ্ছে না, তবু ব্যয় অব্যাহত।
পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল শুরু থেকেই
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইভিএম কেনার সময় এগুলো কোথায় রাখা হবে, কীভাবে সংরক্ষণ হবে, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কোথা থেকে আসবে—এসবের জন্য আলাদা পরিকল্পনা বা অর্থবরাদ্দ রাখা হয়নি। অর্থাৎ, বিশাল একটি প্রযুক্তি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না।
সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় এটি খুবই পরিচিত এক দুর্বলতা: কেনার সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হয়, কিন্তু মালিকানার দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় বিবেচনায় আনা হয় না। ইভিএম সংকট এই ব্যর্থতার জীবন্ত উদাহরণ।
উচ্চমূল্যে কেনা, নিম্নমানের অভিযোগ
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। কে এম নূরুল হুদা কমিশন পর্যায়ক্রমে দেড় লাখ ইভিএম কেনে। প্রতিটি ইভিএম কেনা হয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়, যা ভারতের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেশি।
এই পরিসংখ্যান একাই প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট। প্রযুক্তি আমদানি বা তৈরির খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু ১১ গুণ বেশি মূল্য কোনো সাধারণ ব্যবধান নয়; এটি নীতিনির্ধারণ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা—সবকিছুর ওপরই সন্দেহ সৃষ্টি করে।
শুধু তাই নয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে, ২০২৩ সালে, আরও ২ লাখ ইভিএম কেনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনাও ছিল। পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তৎকালীন সরকার। যদি সেটি বাস্তবায়িত হতো, তাহলে আজকের আর্থিক চাপ ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা আরও অনেক বড় হতে পারত।
গুদামে পড়ে থেকে যন্ত্রও নষ্ট হচ্ছে
জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, শুধু সংরক্ষণ করাই নয়, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। যেমন মানিকগঞ্জে সাড়ে তিন হাজার ইভিএম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুদামে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৫০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। কিন্তু ১৫ দিন পরপর ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়ার যে প্রয়োজন, তা নিয়মিত করা যাচ্ছে না। ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি যন্ত্র গুদামে রাখা হয়েছে।
জামালপুরেও আড়াই হাজার ইভিএম রাখা হয়েছে, যার জন্য প্রতি মাসে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ, যন্ত্রগুলো শুধু অচল হয়ে নেই, সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে আরও দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, এখন যে ব্যয় হচ্ছে, তা শুধু অতীতের ভুলের মূল্য নয়; বর্তমান ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাও এর সঙ্গে যুক্ত।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থাও সংকটপূর্ণ
২০২৪ সালের নভেম্বরে এ এম এম নাসির উদ্দীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়ার পর পড়ে থাকা ইভিএমের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. মাঈন উদ্দীন খানকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
কারণও স্পষ্ট—দুদকের তদন্ত চলছে, অডিট আপত্তি রয়েছে, মামলা আছে, আর যন্ত্র ধ্বংস করতেও পরিবেশগত ও প্রশাসনিক অনুমতি প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজও বলেছেন, মামলা এবং নিরীক্ষা আপত্তির কারণে কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারছে না, আর ইভিএমগুলোও আর নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থাৎ, কমিশন এমন এক সম্পদের মালিক, যেটি ব্যবহারের উপায় নেই, ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই, আর রেখে দিলেও খরচ থামছে না।
রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলে গেছে
ইভিএমকে কেন্দ্র করে একসময় সরকার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের কথা বললেও রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে ইভিএম ব্যবহার না করার সুপারিশ করেছে। এমনকি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) থেকেও ইভিএমের অংশ বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এতে স্পষ্ট যে, ইভিএম এখন আর শুধু প্রযুক্তিগতভাবে নয়, নীতিগতভাবেও বাতিলের পথে। ফলে দেড় লাখ যন্ত্রের ভবিষ্যৎ কার্যত শূন্য।
প্রযুক্তি নয়, সিদ্ধান্তই ছিল মূল সমস্যা
বাংলাদেশে ইভিএম নতুন ধারণা ছিল না। প্রথমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এটি তৈরি করে এবং ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডে প্রথম ব্যবহার হয়। পরে ছোট পরিসরে এর ব্যবহার শুরু হলেও ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমস্যা ধরা পড়ার পর ব্যবহার থেমে যায়। এরপর কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন আবার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়, এবং বিএমটিএফ কমিশনের জন্য ইভিএম তৈরি করে।
অর্থাৎ, প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে বহু আগেই এসেছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সীমিত পরিসরে সমস্যা ধরা পড়ার পরও কেন বড় আকারে কেনাকাটার দিকে যাওয়া হলো? আরও বেশি পরীক্ষণ, খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কি যুক্তিযুক্ত ছিল?
এখানেই মূল শিক্ষা লুকিয়ে আছে: প্রযুক্তি নিজে ব্যর্থ হয়নি, ব্যর্থ হয়েছে তা প্রয়োগের নীতি, পরিকল্পনা এবং জবাবদিহি।
জনসাধারণের অর্থের ব্যবহারে বড় প্রশ্ন
পরিকল্পনা কমিশনের কাছে ইভিএম সংরক্ষণের জন্য ৪০ কোটি টাকা চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন, কিন্তু সেই অর্থ দেওয়া হয়নি। এখন কমিশনের নিজস্ব ভাষ্য অনুযায়ী, ইভিএমগুলোর কন্ট্রোল ইউনিট, মনিটর, ব্যাটারি ও ক্যাবল অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই বিপুল ব্যয়ের দায় কে নেবে? রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য শেষ পর্যন্ত জনগণকেই দিতে হয়। ইভিএমের ক্ষেত্রে এখন সেই বাস্তবতাই সামনে এসেছে। ভোটগ্রহণে সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল যে যন্ত্রের, সেটিই এখন আর্থিক ক্ষতি, প্রশাসনিক ঝামেলা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জবাবদিহি ছাড়া এই অধ্যায়ের শেষ হবে না
সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দুদকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ইভিএম অপসারণ করা উচিত। তা না হলে প্রতি মাসে গুদামভাড়া দিয়েই যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ২০১৮ সালে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের ইভিএম কেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথা বলেছেন।
এই বক্তব্যের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, কেবল যন্ত্র সরিয়ে ফেললেই সমস্যার সমাধান হবে না। কেন এমন ব্যয় হলো, কীভাবে এত বড় কেনাকাটা পরিকল্পনাহীনভাবে সম্পন্ন হলো, কেন সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ছিল না, কারা এর জন্য দায়ী—এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রকল্পেও একই ধরনের অপচয় ঘটতে পারে।
ইভিএম এখন আর শুধু একটি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রযুক্তি নয়; এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান, সরকারি কেনাকাটার স্বচ্ছতা এবং জনসম্পদের ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার একটি পরীক্ষাকেস। ২০১৮ সালে নির্বাচনী আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি হিসেবে যে যন্ত্র কেনা হয়েছিল, ২০২৬-এ এসে তা পরিণত হয়েছে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসনিক বোঝায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বোঝা থেমে নেই। ব্যবহার নেই, ভবিষ্যৎ নেই, তবু খরচ আছে। আর যত দিন দায় নির্ধারণ না হবে, তত দিন এই ঘটনা শুধু অতীতের ভুল হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতের জন্যও এক অস্বস্তিকর সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।

