দেশে হামের সংক্রমণ থামার কোনো লক্ষণ নেই। গত ২৩ দিনে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে ১৪৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে আরও ১২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় একজন নিশ্চিত এবং আরও ১০ জন সন্দেহভাজন শিশুর মৃত্যুর তথ্য মিলেছে। একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে পরীক্ষাগারে এক হাজারের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে এবং হাজারো রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত—উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকা বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে, সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা রাজশাহী বিভাগে তুলনামূলক বেশি। গত এক দিনে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যাও ঢাকায় সবচেয়ে বেশি। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামকে সাধারণ রোগ মনে করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নিলে এবং যথাযথ চিকিৎসা না হলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
তারা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে টিকাদান সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ স্বাস্থ্য উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

