গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দিতে মে মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
প্রাথমিকভাবে আমদানি কমিয়ে ৯টি কার্গো আনার চিন্তা থাকলেও, বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় ১১টি কার্গো আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, এই ১১টি কার্গো আমদানি করা গেলে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এ পর্যন্ত চারটি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে—দুটি স্পট মার্কেট থেকে এবং দুটি দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়। বাকি কার্গোগুলো শিগগিরই চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১০ ডলার, যা এখন বেড়ে ২১ ডলারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মে মাসে এলএনজি আমদানিতে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এপ্রিল ও মে—এই দুই মাসেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশকে এখন বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। আগে যেখানে অধিকাংশ কার্গো চুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল, এখন তার বড় অংশই স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
লোডশেডিং কমাতে গ্যাস সরবরাহে বিদ্যুৎখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা থেকে প্রায় ৪,৭০০ থেকে ৫,০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তবে মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও কম থাকায় সংকট পুরোপুরি কাটছে না। একই সঙ্গে সার ও শিল্পখাতেও গ্যাসের চাহিদা রয়েছে, যা ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গ্যাস আমদানি বাড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে উচ্চমূল্যের কারণে ভর্তুকির চাপ দ্রুত বাড়ছে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

