সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় গঠন করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টে নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “হাইকোর্টের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করব। ইতোমধ্যে আমরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে আবেদন করেছি। কপি হাতে পেলেই আপিল দায়ের করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রায়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত। আমরা আশা করছি আপিল বিভাগে এই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় দেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায়ে সরকারকে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে সচিবালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ রায়ের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরে এসেছে।
হাইকোর্টের রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের অনুচ্ছেদের আওতায় বিচার কর্মবিভাগে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি অনুমোদন এবং শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বে থাকবে।
রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাষ্ট্রপতির নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের ওপর।”

