চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩১ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে অসচেতনতাকে এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ‘সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ২৩১ জন শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১১৩ জন শিশু যানবাহনের যাত্রী বা চালক-সহকারী হিসেবে এবং ১১৮ জন পথচারী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে।
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে থ্রি-হুইলার, নসিমন-ভটভটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৪১ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে এসব যান জড়িত ছিল। এছাড়া বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনে চাপা পড়ে ৪৪ জন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সে ১১ জন এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ১৪ জন শিশু নিহত হয়েছে।
সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে—৮৫ জন শিশু। এরপর গ্রামীণ সড়কে ৫৬ জন, মহাসড়কে ৫২ জন এবং শহরের সড়কে ৩৮ জন মারা গেছে। সময়ের দিক থেকে দেখা যায়, দিনের বেলায় দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। দুপুর ও সকালের সময়েই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই বয়সের ১০৪ জন শিশু মারা গেছে। পাশাপাশি ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৮৬ জন এবং ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৪১ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর পেছনে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সড়কে শিশুবান্ধব পরিবেশের অভাব, ট্রাফিক শিক্ষার ঘাটতি, পরিবারের অসচেতনতা এবং অদক্ষ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের উপস্থিতি।
সংস্থাটি আরও জানায়, স্কুলে যাতায়াত ও বাড়ির আশপাশে খেলাধুলার সময় শিশুরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

