ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ২ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ডিজেল আমদানি করা হবে। ডিজেল সরবরাহ করবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইয়ার এনার্জি এজি এবং কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি।
প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুই লাখ টনের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানের ডলার ভিত্তিক পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) দিতে না পারার কারণে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়নি।
সরকারি ক্রয় আইন অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয়ের সুযোগ থাকায় এই পদ্ধতিতে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি আমদানি, মজুত ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করে। সাধারণত জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র—উভয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

