দেশের জ্বালানি খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক সুবিধার কারণে এ খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলার চিত্র স্পষ্ট—পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, খোলাবাজারে অবৈধ মজুত এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তবে এ অবস্থাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বলা ঠিক হবে না; বরং কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান চালালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হিসেবে তিনি জনমনে আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, গুজব ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা (প্যানিক বায়িং) কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
ড. ইমাম আরও বলেন, দেশের বড় দুর্বলতা হলো নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ যথাযথভাবে কাজে না লাগানো। দেশীয় গ্যাস ও তেলের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমদানিনির্ভর নীতিতে ঝুঁকে পড়ায় ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও সূর্যালোক এ খাতের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ইউরোপের অনেক দেশ তুলনামূলক কম সূর্যালোক পেয়েও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে গেছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ আরও দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করতে পারে, যদি সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একদিকে দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিও স্থিতিশীল হবে।

