এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, পরীক্ষার্থীর খাতায় যা-ই লেখা থাকুক না কেন, শুধুমাত্র সঠিক উত্তরের ভিত্তিতেই নম্বর দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া বা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিব, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মান বজায় রাখার বিষয়টি সেখানে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা আবেগের স্থান নেই। একজন পরীক্ষার্থী ঠিক যতটুকু সঠিক উত্তর দিয়েছে, ঠিক ততটুকুই নম্বর পাওয়ার যোগ্য। এর বাইরে গিয়ে নম্বর বাড়ানো বা কমানো হলে তা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি নকল প্রতিরোধের বিষয়েও জোর দেন তিনি। মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাবলিক পরীক্ষায় নকল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। এবারও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন তারা কোনো ধরনের ভয় বা চাপ অনুভব না করেন। সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে পরীক্ষাকে ঘিরে অযথা গুজব বা আতঙ্ক না ছড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও যাতে নজরদারি বন্ধ না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা—যেমন আইপিএস—রাখতে হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব—এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

