মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভর্তি পরীক্ষায় বড় অংশের শিক্ষার্থী পাস করতে পারছে না। চলতি ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে দ্বৈত জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রায় ৭২ শতাংশই ন্যূনতম পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান—এই তিন ইউনিটে মোট ৪৬ হাজার ৮৬১ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১২ হাজার ৯১৩ জন, যা মোটের ২৭.৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত কয়েক বছর ধরেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে দ্বৈত জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার ছিল মাত্র ১৬ শতাংশ। আর ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে এই হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ।
ভর্তি পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী, মোট নম্বর ১০০। এর মধ্যে ৬০ নম্বর বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং ৪০ নম্বর লিখিত অংশে। এমসিকিউ অংশে কমপক্ষে ২৪ নম্বর না পেলে পরীক্ষার্থীকে অকৃতকার্য ধরা হয়। এই ধাপ পেরোনো শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই নির্দিষ্ট সংখ্যককে লিখিত অংশ মূল্যায়নের জন্য বাছাই করা হয়।
ইউনিটভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে ৪ হাজার ৫৪২ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৬২১ জন। বিজ্ঞান ইউনিটে ২৫ হাজার ৩৪৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৯১৬ জন। আর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ১৬ হাজার ৯৭৪ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪ হাজার ৩৭৬ জন, যেখানে পাসের হার প্রায় ২৫ শতাংশ।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই ফলাফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করছে। তারা বলছেন, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পাঠদান ও মূল্যায়নের পদ্ধতিতে ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রকৃত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় তারা পিছিয়ে পড়ছে।
ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর অধ্যাপক, মনে করেন জিপিএ-৫ এখন এক ধরনের ‘প্রবণতা’ হয়ে গেছে, যার প্রকৃত মূল্য কমে গেছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মৌলিক সমস্যা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন গঠন জরুরি, যাতে সামগ্রিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

