আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া হজ ফ্লাইট কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে শিডিউল জটিলতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় হজযাত্রী পরিবহনে চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে একটি বড় উড়োজাহাজ এখনো বিদেশে মেরামতাধীন থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হজ মৌসুম সামনে রেখে সময় খুবই সীমিত। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে মাত্র ১৪টি উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। যাত্রী চাহিদা ও হজের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সাধারণত আরও অনেক বেশি উড়োজাহাজ প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ দরকার।
গত কয়েক বছরে নতুন কোনো উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে একটি বোয়িং উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইতালির রোমে রয়েছে, যা নির্ধারিত সময়েও দেশে ফিরতে পারেনি। এতে হজ ফ্লাইটের পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিমান সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই উড়োজাহাজটি ফিরে না এলে কিছু ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে। এতে হজযাত্রী পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ফ্লিট সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যার ফল। তাদের মতে, বহরে নতুন উড়োজাহাজ না যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি মৌসুমি চাপও সামলানো কঠিন হবে।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বৈঠক করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন মুখপাত্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ভিসা ও অন্যান্য প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সময়মতো যথাযথ ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করা।

