মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই ইউরোপসহ সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, প্রবাসী কর্মসংস্থানে বৈচিত্র্য আনতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
প্রস্তাবিত নতুন শ্রমবাজারের তালিকায় রয়েছে সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল এবং রাশিয়া। এসব দেশের পাশাপাশি আরও সম্ভাবনাময় বাজার খুঁজে বের করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে উচ্চপর্যায়ের সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে স্থানীয় শ্রমবাজার বিশ্লেষণ করে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষার পাশাপাশি রুশ, আরবি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষা শেখানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
সরকার জানিয়েছে, প্রচলিত শ্রমবাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়ানো হলে বৈদেশিক আয়ের উৎস আরও স্থিতিশীল হবে।
একই সঙ্গে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার উদ্যোগ এবং থাইল্যান্ড-এর সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে। এছাড়া জাপান-এ দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ায় সে দেশে কর্মী পাঠানোর হার বৃদ্ধির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ঝুঁকিও কমবে।

