প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়িয়ে ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান। আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আটটি জেলা এবং রংপুর অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালের যে আইনটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রণয়ন করেছিলেন, সেটিকে সংশোধন করে আরও কঠোর করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হবে এবং শিগগিরই এটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তাঁর ভাষায়, কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ্য করা হবে না।
সাইবার অপরাধ দমনে নজরদারি জোরদারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিদেশে অবস্থানরত বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। যারা জড়িত থাকবে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি সংঘবদ্ধ অপরাধে পরিণত হয়েছে। তাই সংশোধিত আইনে এ ধরনের চক্রকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ থাকলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হলে শিক্ষকতার প্রতি মেধাবীদের আগ্রহ বাড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। তখন শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ পিনাকসহ অন্যান্যরা।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেন্দ্রসচিব ও রাজনৈতিক নেতারাও সভায় অংশ নেন।

