বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অনেক সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় সমস্যা হলো রেফারেল সিস্টেমের অভাব। এর ফলে রোগী, চিকিৎসক এবং পুরো স্বাস্থ্যখাতের কাজকর্মে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অনেক দেশে নিয়ম হলো—রোগীরা প্রথমে তাদের এলাকায় সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যাবেন। চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে রোগ পরীক্ষা করবেন, সাধারণ চিকিৎসা দেবেন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠাবেন। এতে রোগীরা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পান এবং অপ্রয়োজনীয় খরচও কম হয়।
বাংলাদেশে এমন ব্যবস্থা নেই। রোগীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছে চলে যান। অনেকেই মনে করেন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা দিতে পারবেন। কিন্তু অনেক সময় তাদের সমস্যা এমন হয় যা সাধারণ চিকিৎসকের মাধ্যমে সহজেই সমাধান করা যেত।
ফলে অনেক রোগী ভুল বিশেষজ্ঞের কাছে চলে যান। উদাহরণস্বরূপ, ত্বকে সাধারণ র্যাশ হলে কেউ নামকরা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন। অথচ সাধারণ চিকিৎসক কয়েক মিনিটেই রোগ শনাক্ত করে সহজে চিকিৎসা দিতে পারতেন।
এভাবে সরাসরি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার ফলে রোগীদের খরচ বাড়ে। ২০২১ সালের বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু নিজের পকেট থেকে স্বাস্থ্যখাতে খরচের পরিমাণ অষ্টম স্থানে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার খরচ সাধারণ চিকিৎসার তুলনায় অনেক বেশি।
এছাড়া, কিছু “খ্যাতনামা” ডাক্তারদের ওপর রোগীর চাপ অনেক বেশি। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ঘণ্টা বা দিন ধরে অপেক্ষা করতে হয়। পরে দেখা যায়, রোগীর সমস্যা এমন যা সাধারণ চিকিৎসক সহজেই সমাধান করতে পারতেন। এতে রোগীর সময় নষ্ট হয় এবং কখনও জীবনহানির ঝুঁকিও বাড়ে।
রেফারেল সিস্টেম না থাকায় বিশেষজ্ঞরা এমন রোগীদের দেখছেন, যাদের সাধারণ চিকিৎসা দিয়েও সমাধান করা যেত। এতে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় দেরি হয়, যা বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি দেশে কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু হয়, তাহলে স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আসবে। এজন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সেখানে সাধারণ চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা থাকতে হবে।
সাথে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। মানুষকে বোঝাতে হবে, প্রথমে সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া মানে কম মানের চিকিৎসা নয় বরং এটি সঠিক চিকিৎসার প্রথম এবং বুদ্ধিমানের পদক্ষেপ।

