জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সমন্বিত খসড়া সনদ প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল এটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রথম ও দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মোট ৮৪টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্য হয়েছে। এসব প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রথম পর্বের সিদ্ধান্ত
প্রথম দফার আলোচনায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন, জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন, রাজনৈতিক দলকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস চালু, আইনজীবীদের আচরণবিধি প্রণয়নসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
এছাড়া গণহত্যা ও ভোট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন, তথ্য অধিকার আইন সংশোধন, দুর্নীতিবিরোধী কৌশলপত্র তৈরি, নির্বাচনী অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে সংশোধন, কমিশনার নিয়োগ পদ্ধতি পরিবর্তন এবং আয়কর আইন সংস্কারের মতো পদক্ষেপ নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়।
দ্বিতীয় পর্বের সংস্কার প্রস্তাব
দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ভিন্নমত ছাড়া ১১টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়। সেগুলো হলো—
১. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্ধারণ
২. নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ
৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত বিধান
৪. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ—সুপ্রিম কোর্ট ও উপজেলা পর্যায়ে আদালত সম্প্রসারণ
৫. জরুরি অবস্থা ঘোষণা
৬. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
৭. সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া
৮. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল
9. নির্বাচন কমিশন গঠন
10. পুলিশ কমিশন গঠন
11. নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ।
ভিন্নমত থাকা প্রস্তাব
তবে সব বিষয়ে একমত হয়নি রাজনৈতিক দলগুলো। কয়েকটি প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট যুক্ত হয়েছে।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি: জাসদ, সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও গণফোরাম।
- রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব: বিএনপি, এনডিএম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, লেবার পার্টি, ১২–দলীয় জোট ও এলডিপি।
- প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান: বিএনপি, এনডিএম, ১২–দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা: বিএনপি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় গঠনের পক্ষে। আংশিক ভিন্নমত আছে লেবার পার্টি, এনডিএম, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২–দলীয় জোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টির।
- উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি: বিএনপি ও এনডিএম।
- উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ: বিএনপি ও এনডিএম।
- উচ্চকক্ষের ভূমিকা: সিপিবি, এনডিএম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও আম জনতার দল।
- নারী আসনের বিধান: সিপিবি, বাসদ ও আম জনতার দল।
- ন্যায়পাল, সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং দুদক নিয়োগ: বিএনপি, এনডিএম, ১২–দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট।
- ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে যুক্ত হওয়া: জামায়াতে ইসলামী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, জাকের পার্টি, জেএসডি ও বিএসপি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই সনদ নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। দলগুলোর ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও বড় পরিসরে ঐকমত্যে পৌঁছানোকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

