রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। টানা ২৪ ঘণ্টার আন্দোলনে চারজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। এরপর আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও কিছু শিক্ষার্থী অনশন শুরু করেন। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকে আরো জোরদার করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত কোনো ধারা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ বাবদ ফি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার দাবি জানান।
রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। উপাচার্য মো. শওকাত আলী, রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদ, প্রক্টর ফেরদৌস রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টা ইলিয়াস প্রামাণিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। ইলিয়াস প্রামাণিক অনশনের পরিবর্তে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান, তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন।
উপাচার্য মো. শওকাত আলী বলেন, “বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ধারা সংযুক্ত না থাকায় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। আইন সংশোধন হলে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে। আমি ইউজিসির সঙ্গে কথা বলেছি যাতে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে না হয়।”
টানা সাড়ে ১২ ঘণ্টার অনশনের সময়, রাত ১২টার দিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জাহিদ হাসান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাহিদুল ইসলাম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রুমানুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষকেরা তাদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে অন্য শিক্ষার্থীরা রাজি হননি। পরে চিকিৎসক ডেকে তাদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর আজ সকালে আরমান হোসেন নামের আরও একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক শামসুর রহমান বলেন, “আমাদের ভাইরা শয্যাশায়ী। যদি দাবির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না দেখা যায়, তবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও শক্তিশালী আন্দোলনের সূচনা হতে পারে।”
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত ছাত্র সংসদের অধিকার ও আইন সংশোধনের দাবি জানাচ্ছেন। তারা মনে করেন, ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছ ও সমন্বিত প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংলাপ চলমান। প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, আইন সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরবে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন।

