দেশীয় অনেক সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অধিকাংশ মহাসড়কের করুণ দশার কারণে যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। সাধারণত তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। ঢাকা–সিলেট, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার, ফরিদপুর–বরিশাল–কুয়াকাটা, খুলনা–সাতক্ষীরা, ঢাকা–বরিশাল, বগুড়া–নাটোরসহ কয়েকটি প্রধান মহাসড়কের চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সড়কের সমস্যার মূল কারণ—খানাখন্দে ভরা অবকাঠামো।
উন্নত দেশগুলোতে নতুন সড়ক কমপক্ষে ১০ বছর টেকসই থাকে, কিন্তু দেশে অধিকাংশ সড়ক নির্মাণের মাত্র তিন–চার বছর, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যেই মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান কম এবং মেরামতের কাজও কার্যকরভাবে করা হয় না। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক পুরোনো অবস্থায় ফিরে আসে।
এবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কের ক্ষতি আরো তীব্র হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরকারী কর্তৃপক্ষ বৃষ্টির আগে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। এ ছাড়া ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও সড়কের দ্রুত ক্ষয়ের একটি বড় কারণ।
দেশের অনেক সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের নজর তখনই পড়ে, যখন দুর্ঘটনা ঘটে বা সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।
সড়ক মেরামতের নামে জনগণের অর্থ অপচয় করা কাম্য নয়, তেমনি জরুরি মেরামতও ফেলে রাখা যাবে না। বড় ও ছোট সব সড়কের সংস্কার কার্যক্রম অবিলম্বে সম্পন্ন করা উচিত। কর্তৃপক্ষকে নজরদারি করতে হবে যাতে মেরামতের নামে ইট–বালুর আস্তর দিয়ে দায়িত্ব শেষ না হয়।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে একসময় নৌপথ ছিল প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। তবে এটি শ্লথগতির, আর ট্রেনও অতীতের গৌরব হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য। সড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল করা বা ভালো মানের যানবাহন অনুপযোগী সড়কে নামানো, দু’ই অবাঞ্ছিত ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

