রাজধানী ঢাকার শিক্ষা ভবন থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কপথের ২২টি ইন্টারসেকশনের মধ্যে ৭টিতে আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে নতুন সেমি অটোমেটিক সিগনালিং সিস্টেম চালু হয়েছে। দুই সপ্তাহব্যাপী এ পাইলটিং কার্যক্রম শেষে ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বাকি ইন্টারসেকশনগুলোতেও সিগনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
ডিটিসিএর পাঠানো এক প্রেস নোটে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার সংস্থার সভাকক্ষে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোন কোন ইন্টারসেকশনে সিগনাল চালু হলো
ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবন থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত করিডোরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এগুলো হলো—
- হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
- বাংলামটোর
- সোনারগাঁও
- ফার্মগেট
- বিজয় সরণী
- প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
- জাহাঙ্গীর গেইট
কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে নতুন সিগনাল
এসব মোড়ে পুলিশ বক্সের মতো বিশেষ কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে আছেন একজন কন্ট্রোলার ও দুজন অপারেটর। অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য এবং বুয়েটের প্রতিনিধি। তারা শিফটে কাজ করছেন এবং সিগনাল সিস্টেম পরিচালনা করছেন। এই ব্যবস্থা অটোমেটিক ও ম্যানুয়ালি—দুইভাবেই পরিচালনা করা সম্ভব।
ডিটিসিএ জানিয়েছে, উদ্যোগ সফল করতে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পাশাপাশি, পথচারী ও চালকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও টেলিভিশনে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি
জানা গেছে, হাইকোর্ট থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পুরো করিডোরে মোট ২২টি ইন্টারসেকশন রয়েছে। ডিটিসিএর সমন্বয়ে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে এবং বুয়েটের কারিগরি পরামর্শে সিগনাল স্থাপনের কাজ চলছে।
শুক্রবার সকালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সড়ক অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ডিটিসিএ, দুই সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


