সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল সালাহ উদ্দীন আহমাদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সালাহ উদ্দীন বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার রাত ১টা ২০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। খবরটি নিশ্চিত করেন তাঁর মেজ সন্তান আবরার আহমাদ।
আবরার জানান, আজ বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তাঁর বাবার জানাজা হবে। বাদ এশা ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
সালাহ উদ্দীন আহমাদ দেশের ১৪তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, ২০০৮ সালের ২০ জুলাই। এর আগে ২০০৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন জানান, আজ হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অবকাশকালীন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সালাহ উদ্দীন আহমাদ ১৯৪৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। পরে ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনের পর আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ঢাকা জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৮২ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০২ সালে আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগেও শিক্ষকতা করেছেন।

