দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার আগেই ৬৭ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের একটি দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চায়। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।
তার ভাষায়, শিক্ষিত বেকারত্ব কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া—এই দুটি বিষয়ই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে একটি বড় অগ্রগতি।
চৌধুরী রফিকুল আবরার জানান, সারা দেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে। এসব পদে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এক দিনের মধ্যেই নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষিত ও বেকার তরুণদের উদ্দেশে বলেন, যারা আন্তরিকভাবে শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নিতে চান এবং যাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে, তারা যেন নিজ নিজ শিক্ষাগত মান অনুযায়ী আবেদন করেন।
তিনি আরও বলেন, আজ যাঁরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণে তাঁদের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে যোগ্য ও দক্ষ মানুষদেরই শিক্ষকতায় আসতে হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, গত মাসে এনটিআরসিএ সারা দেশে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পর তাঁর নেতৃত্বে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি শূন্যপদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূরণ করাই সরকারের ঘোষিত নীতি।
সংখ্যাগত হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, এবার মোট ৬৬ হাজার ৯৬২টি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে ২৯ হাজার ৩২৫টি পদ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৮৩৩টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩৬ হাজার ৮০৪টি পদ।
এই উদ্যোগ শিক্ষা খাতে গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি এই নিয়োগ কার্যক্রম শিক্ষিত বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের জন্য শিক্ষা খাতে টেকসই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি করবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

