নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনি কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র ২১ শতাংশ পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। বাকি ৭৯ শতাংশ কর্মকর্তা এ কার্যক্রমে অংশ নেননি। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অপ্রতুল প্রচারণার কারণেই তারা নিবন্ধনের সুযোগ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথভাবে জানতে পারেননি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধন পোর্টাল, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ১৭ হাজার ৭০২ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনের শেষ দিন ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৩ হাজার ৭০৪ জন কর্মকর্তা। যা মোট সংখ্যার মাত্র ২১ শতাংশ।
আসনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী-১ আসনে ১৪১টি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ হাজার ৮০৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৬৮৮ জন। নোয়াখালী-২ আসনে ১১১টি কেন্দ্রে ২ হাজার ২১১ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৪৮৫ জন। নোয়াখালী-৩ আসনে ১৬৬টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১৮৭ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৫৭৩ জন। নোয়াখালী-৪ আসনে ১৯৮টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৮৭ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৯৪৮ জন। নোয়াখালী-৫ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১১০ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৫৯১ জন। আর নোয়াখালী-৬ আসনে ১০৪টি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ হাজার ৯৯ জন কর্মকর্তার মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৪১২ জন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করে এলেও কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এবার সুযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় এবং দপ্তরগুলোর উদাসীনতায় তিনি নিবন্ধন করতে পারেননি। বিষয়টি তার কাছে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তারপরও কেন নিবন্ধন কম হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি জানান, অনেক কর্মকর্তা আঙুলের ছাপ মেলাতে না পারায় নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি।
জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
নিবন্ধনের হার কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি নয় উপজেলার দপ্তরপ্রধান ও প্রচার সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমেও সবাইকে অবহিত করা হয়।

