একেএম আসাদুজ্জামান নূর নামের এক কর পরিদর্শক রেকর্ড ১৮০ দিন অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারণে চাকরি হারিয়েছেন।রোববার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাকে চাকরিচ্যুত করেছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ) জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ।
সুত্রে জানা যায়, একেএম আসাদুজ্জামান ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল কর পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। ১৮ এপ্রিল তিনি বরিশালের কর অঞ্চল, পরিদর্শী রেঞ্জ-৪-এ যোগদান করেন। পরে তাকে সার্কেল-১৬ (লালমোহন)-এ স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রায়ই বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
সার্কেল কর্মকর্তা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। হাজিরা খাতা ও নোটিশ অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ৫৪ দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। সার্কেল এবং বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে বিভিন্নবার ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
প্রথমবারের মতো সতর্ক করা হয় ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই। এরপর ১৩ আগস্ট তাকে পরিদর্শী রেঞ্জ-৪-এ বদলি করা হয়। কিন্তু সেখানে তিনি আরও বেশি সময়, ২৪ আগস্ট ২০২৩ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত ১২৬ দিন, অনুপস্থিত ছিলেন।
দুই কর্মস্থল মিলিয়ে তার বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতির মোট সময় দাঁড়ায় ১৮০ দিন। এই আচরণের কারণে অফিসের শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণেও ব্যাঘাত ঘটেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনবিআরকে চিঠি দেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০ ফেব্রুয়ারি জবাব পাওয়া যায়, যা সন্তোষজনক ছিল না। অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণের পরও তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেননি।
পরবর্তী তদন্তে বরিশাল কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এর যুগ্ম কমিশনারকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘ডিজারশন’-এর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়।
শেষ পর্যন্ত, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(গ) অনুযায়ী, একেএম আসাদুজ্জামানকে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

