দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে নেমেছে। অনুসন্ধানে রয়েছে অভিযোগ, যে সাতটি বন্ধ মিলের প্রায় ৪০–৪৫ কোটি টাকার মেশিনারিজ মাত্র ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রি হয় বিনা টেন্ডারে এবং সরকারের অনুমোদন ছাড়া।
সূত্র জানায়, বিটিএমসির কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিতি থাকা মেসার্স আয়েশা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মেশিনারিজ বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকা বিটিএমসির হিসাবেও জমা আছে বলে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে।
দুদক আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) জানায়, ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একজন সহকারী পরিচালককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে অভিযোগ সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেছেন। কিছু নথিপত্র ইতোমধ্যে দুদকে পৌঁছেছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই বিটিএমসি ৩৫ জন কর্মকর্তাকে বিধি ও নিয়ম অমান্য করে পদোন্নতি দিয়েছে। অবৈধভাবে ব্যবস্থাপক, বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারীর নিয়োগ ও পদোন্নতিও ঘটেছে। সূত্রের মতে, বিটিএমসির নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির সব কাজ বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে হয়।
তাছাড়া, বিটিএমসি ভবনের ছাদে রেইনি রুফটপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফে নামে একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই এটি পরিচালিত হচ্ছে। রেস্টুরেন্টটি ১৩ তলায় অবস্থিত এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল এভিয়েশনের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। রেস্টুরেন্টের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলও ২৪ লাখ টাকা বকেয়া। সূত্র বলছে, নাম ও প্রভাবে এটি বিটিএমসির শীর্ষ দুই কর্মকর্তার মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে।
এর বাইরে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিলের যন্ত্রাংশ বিক্রয়ে টেন্ডারে অনিয়ম এবং করোনাকালে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দুইটি গাড়ি কেনার অভিযোগও উঠেছে। এসব অনিয়মের দায়ে বিটিএমসির সাবেক ও বর্তমান বেশ কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

