সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি ফ্ল্যাট, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দুটি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
দুদকের পৃথক আটটি আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। অন্য যে দেশগুলোতে সম্পদ রয়েছে তা হলো–আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম।
যুক্তরাষ্ট্রে ৪০টি ফ্ল্যাট ও বাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মূল্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩৬ কোটি ১০ লাখ এক হাজার ১৪২ টাকা) ধরা হয়েছে। এছাড়া জেডটিএস প্রোপার্টিস ও তানয়ীম প্রোপার্টিসে বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তানয়ীম প্রোপার্টিসে রয়েছে ১ কোটি ডলার বা ১২২ কোটি টাকা।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দুটি ফ্ল্যাট জব্দ হয়েছে। মূল্য ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯০ ফিলিপাইন পেসো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা)। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ২৩টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মূল্য ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ থাই বাথ (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৬ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার ৩২৮ টাকা)।
ভিয়েতনামে ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ও ৩টি ফ্ল্যাট জব্দ হয়েছে। ৩০টি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৪ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার এবং ১৬ হাজার ৪২৩ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৮ ভিয়েতনাম ডং। তিনটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৬৮ লাখ ১১ হাজার ৭২৫ মার্কিন ডলার। মোট সম্পদের মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬৩ কোটি ৮৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭১ টাকা।
মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে। মূল্য ১০ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার ৫৩৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩১৩ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯০ টাকা)। কম্বোডিয়ায় ১১৭টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ হয়েছে। মূল্য ৩ কোটি ৫৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৭ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩২ কোটি ৮৫ লাখ ৮ হাজার ৩৯৪ টাকা)।
ভারতে নয়টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট জব্দ হয়েছে। মূল্য ৭ কোটি ১৪ লাখ ২১ হাজার ৫৫৬ ভারতীয় রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ১০০ টাকা)। আরব আমিরাতে ৫৯টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে। মূল্য ২১ কোটি ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৫ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৯৮ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৫ টাকা)।
দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান এসব আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ঘুষ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা বিদেশে পাচার করেছেন। বিভিন্ন দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলার তদন্ত চলমান।
তদন্তের সময় তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াস তালুকদারের বাড়ির প্রতিবেশী ওসমান তালুকদারের বাসা থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসব সম্পদ ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

