নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় বিদেশে থাকা সম্পদ গোপনের অভিযোগ উঠেছে। হলফনামায় তিনি বিদেশে তাঁর কোনো সম্পদ নেই বলে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে এক ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানায়- সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
তবে অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া এবং তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন ইসমাইল কানাডার টরন্টোর নর্থ ইয়র্ক এলাকায় যৌথভাবে একটি আবাসিক বাড়ির মালিক। বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৪ কোটি টাকা। নথি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর তাঁরা বাড়িটি ক্রয় করেন।
এছাড়া ২০২৫ সালের মে মাসে ওই বাড়ির সম্পত্তি কর পরিশোধের তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স পরিশোধের রশিদে মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া এবং তাঁর স্ত্রীর নাম উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামায় বিদেশে থাকা সম্পদ কেন উল্লেখ করা হয়নি—এ বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়ার সঙ্গে সূত্র যোগাযোগ করলে তিনি কানাডায় তাঁর কোনো বাড়ি থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা একসময় কানাডায় বসবাস করতেন এবং সন্তানদের পড়াশোনার সূত্রে সেখানে ছিলেন। তবে সেখানে তাঁর কোনো বাড়ি নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁকে জানানো হয় যে ওন্টারিও ল্যান্ড রেজিস্ট্রি থেকে সংগৃহীত নথিতে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী যৌথভাবে বাড়িটির মালিক হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের নামে প্রদত্ত সম্পত্তি করের কপিও রয়েছে। এসব তথ্য স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও তিনি বিষয়টি স্বীকার করেননি।
ওন্টারিও ল্যান্ড রেজিস্ট্রি থেকে সংগৃহীত মালিকানার নথি, মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন ইসমাইলের নামে প্রদত্ত সম্পত্তি করের কপি এবং নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদের বিবরণ এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই স্বচ্ছতা ও সততা প্রত্যাশিত—এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে বিষয়টি ঘিরে।





