প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ জারির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মিরপুর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গণপরিবহন না পেয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রী ও নগরবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী একটি মিছিল নিয়ে বের হন। নীলক্ষেত হয়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তারা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, তাদের দাবি পরিষ্কার—ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে। তিনি বলেন, আর কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
এই অবরোধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সাভার থেকে গুলিস্তান যাওয়ার পথে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আটকে পড়া যাত্রী রফিক বলেন, ‘যার যেখানে খুশি রাস্তা আটকাচ্ছে। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। দেখার কেউ নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত এই ভোগান্তি নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এদিকে সায়েন্স ল্যাবের পাশাপাশি মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এর আগের দিনও একই দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। সেদিনও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, সাত কলেজের সংকট নিরসনে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে অনড় রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ‘সংযুক্ত’ কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

