অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ওনারা নতুন শক্তির কথা বলে শেষ বিচারে যেয়ে একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে গেলেন। সে জন্য ওনারা আচরণও করতে পারলেন না। ওনারা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারলেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওনারা কি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও করতে পারবেন কি না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘আগামী সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কারের কথা বলেছিল, তা কার্যকর করতে যে সক্ষমতা, অংশীজনের অংশগ্রহণ এবং উন্মুক্ততা প্রয়োজন ছিল, তা তারা দেখাতে পারেনি।
তিনি বলেন, সংলাপের ক্ষেত্রে সরকার মূলত রাজনীতিবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। জাতীয় উত্থান, জাতীয় জাগরণ ও জাতীয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে নতুন বন্দোবস্ত গড়ে তোলার চিন্তা সামনে আনা হয়নি। সংলাপে অংশীজনদের মতামত না নেওয়াকে তিনি বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এর প্রথম ফলাফল হলো—যাঁরা নতুন বন্দোবস্তের কারিগর হতে চেয়েছিলেন, তারা শেষ পর্যন্ত পুরোনো বন্দোবস্তের অংশ হয়ে গেছেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছেন এবং ব্যয়বহুল নির্বাচনের অংশ হয়েছেন। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলেও নির্বাচনী ব্যয় কমাতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
দ্বিতীয় ফলাফল হিসেবে তিনি বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যবসায়ীরা দেশ ছেড়েছেন, রাজনীতিবিদেরা আত্মগোপনে গেছেন, কিন্তু আমলারা ফিরে এসেছেন। কারণ, পুরোনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক্ষক হলো আমলাতন্ত্র। এই আমলাতন্ত্রকে পুনরায় ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। নীতি সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধূরী, শাহীন আনাম ও সুলতানা কামালসহ অন্যরা।

