দেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনে দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। আজ সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় রওনা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের কাজ শুরু হয়।
আজ শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে এ তথ্য জানান।
পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ইন্তা লাসে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরো জানান, ইইউ ইওএম দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায়।
দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ঢাকাভিত্তিক মূল বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।
ইন্তা লাসে বলেন, পর্যবেক্ষকেরা দুই সদস্যের দল গঠন করে কাজ করবেন। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। কার্যক্রম শুধুমাত্র শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছোট শহর ও গ্রাম পর্যায়েও পরিচালিত হবে।
ইইউ কর্মকর্তারা জানান, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষক নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরুর আগে তাদের বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইইয়াবস। তিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে মিশন আরো জোরদার করা হবে। তখন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকও মাঠে নামবেন। তাদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকও যুক্ত হবেন। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল সংকলন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।
ইইউ ইওএম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এরপর পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।
ইইউ কর্মকর্তারা জানান, উভয় প্রতিবেদনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটেও তা পাওয়া যাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে কাজ করে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করাই তাদের মূল নীতি। মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সূত্র: বাসস

