সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মাইনরিটি লইয়ার্স ইউনিটি। একই সঙ্গে এসব সহিংসতা বন্ধে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনাসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক জে. কে. পাল, সদস্য সচিব সুমন কুমার রায়, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান আইনজীবী ঐক্য কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বিভাস বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক প্রবীর হালদারসহ অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশে বক্তব্যে সুমন কুমার রায় বলেন, দেশে যেভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই অরাজক পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভোট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক জে. কে. পাল বলেন, দেশে আইনের শাসন কার্যকর আছে বলে মনে হয় না। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা ঘটলেও রাষ্ট্র কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সর্বত্র সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেলেও সরকার নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
সমাবেশে বক্তারা সহিংসতা ও অরাজকতা বন্ধে প্রধান উপদেষ্টার অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো—
১) সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জুডিশিয়াল তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩) বৈষম্য দূর করে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যানুপাতিক হারে সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং ইতোমধ্যে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের পুনর্বহাল করা।
৪) ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাতে বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী প্রার্থীদের ভোট প্রচারণার দিন থেকে নির্বাচন পরবর্তী অন্তত ১০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।
৫) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ সব কারাবন্দির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া।

