সরকার মংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্ট (কমফ্লট ওয়েস্ট) অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়েছে, যার ফলে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
আগে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী এখন এটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সময় বাড়ানোর ফলে প্রকল্পটির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট ব্যয় ৬৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বাস্তবায়নে থাকা এই প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো মংলা নৌ অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক সক্ষমতা জোরদার করা। এই অঞ্চলটির আওতায় দেশের গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকা রয়েছে, যার মধ্যে বাগেরহাট জেলার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মংলা সমুদ্রবন্দরও অন্তর্ভুক্ত।
কর্মকর্তারা জানান, বিলম্ব এবং কারিগরি সমন্বয় চলমান থাকায় সময় বাড়ানো এড়ানো সম্ভব হয়নি, যা ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বাস্তবায়ন সময় বাড়ানোর ফলে প্রকল্পটি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সংশোধিত দর তালিকা এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকির মুখে পড়েছে।”
ব্যয় বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো প্রকল্পটির নদীতীরবর্তী অবস্থান।
বাস্তবায়নের সময় পরিচালিত মাটি পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা শক্তির তুলনায় মাটির অবস্থা দুর্বল। ফলে ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার জন্য পাইলের সংখ্যা, দৈর্ঘ্য এবং ব্যাস বৃদ্ধি করতে হয়েছে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং নির্মাণসামগ্রী, প্রকৌশল সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের দাম বাড়ায় সংশোধিত বাজেট আরও বেড়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ও ব্যয় কমাতে প্রকল্পের নকশাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ৫৪ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৫৪ শতাংশ।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উন্নত কমফ্লট ওয়েস্ট স্থাপনাগুলো মংলা অঞ্চলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা বাড়াবে। এর মাধ্যমে নিরাপদ জেটি সুবিধা, আবাসন, চিকিৎসা সেবা, সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ক্রমবর্ধমান সংখ্যক নৌ ও বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনায় সহায়ক হবে।
এই প্রকল্পটি দেশের ব্লু ইকোনমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, মাছ ধরার ট্রলার এবং অন্যান্য সামুদ্রিক কার্যক্রম সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “সময় বাড়লে ব্যয় বাড়াটাই স্বাভাবিক” এবং আরো বলেন যে, সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা এখন অত্যন্ত জরুরি, যাতে ব্যয় আরো না বাড়ে।
প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা এমন এক সময়ে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, যখন উন্নয়ন ব্যয় বিলম্ব এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যেই কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: ‘ইউএনবি’-এর ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

