‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি বলে জানায়- সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’
আজ শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ।
মতিউর রহমান বলেন, পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন ও সাংবাদিক ইউনিয়ন এক জায়গায় একত্র হওয়ার বিষয়টিকে তিনি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, “বিগত ৫৫ বা ১৫ বছর ধরে এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, বড় ভাবনা এবং বড় চিন্তা।”
তিনি আরো বলেন, “যে মতের, ভাবনার বা আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকা উচিত। সমঝোতা থাকতে হবে, একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
মতিউর রহমান আরো বলেন, “এই সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা এবং সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা ভাবতে পারি না যে আগামী সরকার বা নির্বাচিত সরকার আসলেই আমাদের সবকিছু দিয়ে দেবে; অতীতেও হয়নি, এখনো হবে না।”
সাংবাদিক শফিক রেহমানের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবনের ৫৫ বছর, শফিক (শফিক রেহমান) ভাইয়ের জীবনের আরও অনেক বেশি বছর কোনো সরকার, কোনো সময় যায়নি যে আমাদের ওপরে কোনো না কোনোভাবে হয় ডিক্লারেশন বন্ধ…১৯৭৫ সালে তো সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেল। একটা প্রথম বড় রকমের স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ ছিল বাংলাদেশের কোনো এক সরকারের বা বিশেষ করে স্বাধীনতার পরের সরকারের পক্ষ থেকে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। তার পরবর্তী সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক শাসন সব আমলেই আমাদের প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতা ছোট, বড়, মাঝারি রকমের।’
মতিউর রহমান বলেন, “অতীতের কাজ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা সম্ভব। অনেক বিলম্ব হলেও এখন এই বিতর্কগুলো হচ্ছে এবং কিছু পরিবর্তনের লক্ষ্যও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা কিছু উদ্যোগ নিচ্ছি, যার মধ্যে আজকের সমাবেশও অন্যতম। ঐক্য, সমঝোতা এবং সংহতি এই সময়ে আগামী দিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”
সম্মিলনে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা।

