আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিনুর রহমান।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁকে গুম করা হয়েছিল। হরকাতুল জিহাদ নামক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১-এ আজকের শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এ মামলার একজন আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।
এর আগে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার বাবা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির শাস্তি ভোগ করেছিলেন।
হাসিনুর রহমান বলেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত অবস্থায় ২০১১ সালের ৯ জুলাই তাঁকে গুম করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর ঢাকার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে ৪৩ দিন ধরে আটক রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল হরকাতুল জিহাদ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার। তিনি সেই কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ২০১৪ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার নির্দেশে তিনি মুক্তি পান।
জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট আবারও তাকে গুম করা হয়। এই গুমের ঘটনায় তার বন্ধু লেফটেন্যান্ট কর্নেল যায়িদ আবদুল্লাহ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার এবং ডিজিএফআই ও র্যাব জড়িত ছিলেন। সেই সময় তাঁকে মারধর করা হয়। সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে লেখালিখি করার বিষয় নিয়েও জিজ্ঞাসা করা হয়।
এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। আজ তারা ট্রাইব্যুনালে হাজির হন।
বাকি ১০ জন আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
আরও পলাতক আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক, এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

