বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, ২০০৮ সালে সরকারের ঋণ ছিল দুই লাখ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকার চলে যাওয়ার সময় এ ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকায় অর্থাৎ এ সময়ে দেশের সামগ্রিক দায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তখন ব্যয়ের উদ্বৃত্ত তৈরি করা দরকার ছিল; তা হয়নি।
তিনি বলেন, ঋণভিত্তিক ব্যয় কোনো আয় তৈরি করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি দায়ের বোঝা বেড়েছে। পদ্মা সেতুর কারণে চালের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উঠে আসলে বশিরউদ্দীন জানান, আয় ও উন্নয়নের কথা বলেও প্রকল্পগুলো বাস্তবে তার বিপরীত প্রমাণ দিয়েছে।
অযাচিত প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্মা রেলসেতু থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় হবে বলে বলা হয়েছিল। বাস্তবে আয় হয়েছে মাত্র ২৬ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২ শতাংশ বাড়বে বলা হয়েছিল। সেটি হয়নি, উল্টো কমেছে। যদি এই অর্থ সেচ ও সার খাতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হতো, ঋণ কমত এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বেড়ে যেত।’
তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর ও পদ্মা সেতু মতো প্রকল্পের জন্য সরকারের বড় দায় তৈরি হয়েছে। এসব কাজে অপরিণামদর্শী খরচ হয়েছে। এর পাশাপাশি গত ১৫ বছরে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৪৬ শতাংশ। এসব কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বড় ঋণ নিতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে।

