দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ ও রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নতুন আমদানি নীতি খসড়া ২০২৫-২০২৮ অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে, যা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “দেশের রফতানি সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে আমদানি নীতির কার্যকারিতার ওপর। নীতি এমনভাবে প্রণয়ন করা প্রয়োজন যাতে রফতানিমুখী কার্যক্রমকে উৎসাহ ও সহায়তা দেয়া যায়।”
শফিকুল আলম আরও বলেন, “আমদানি নীতি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে রফতানিযোগ্য পণ্য ও প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজেই দেশে আসতে পারে। তারপর তা স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া নীতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো এবং অনুমোদন দেয়া হলো।”
তিনি বলেন, “নতুন নীতি আমদানি প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়াবে। কাস্টমস শুল্ক ও অন্যান্য কর ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে, যা রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। এছাড়া, আমদানি পণ্য ছাড়পত্র ও পরবর্তী যাচাই-বিশ্লেষণে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ফলে, আমদানিকৃত পণ্যের প্রথম রাউন্ড পরীক্ষায় সমস্যা ধরা পড়লে আমদানিকারীরা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন, যা আগে সম্ভব ছিল না।”
প্রেস সচিব জানান, “নতুন নীতি বাস্তবায়নের ফলে দেশী ও বিদেশী ব্যবসায়ীরা সহজভাবে ব্যবসা করতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে দেশের বিদ্যমান ব্যবসায়িক পরিবেশ পুরোপুরি বাণিজ্য সহায়ক নয়। নতুন নীতি এটি আরও উন্নত করবে এবং রফতানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “রফতানিমুখী শিল্প যেমন—তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ, আসবাবপত্র ও ফার্নিশিং খাতের কারখানা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে। এতে এসব খাতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে।”

