ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ সদস্য সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন। মোট সদস্যের হিসাবে যা ৮৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৫৮ হাজার থাকবেন স্ট্রাইকিং ফোর্স, ভ্রাম্যমাণ টহল ও ভোটকেন্দ্রে। বাকি ২৯ হাজার সদস্য ‘সাপোর্ট ফোর্স’ হিসেবে কাজ করবেন।
নির্বাচন উপলক্ষে আজ রোববার থেকেই মাঠে নামছে পুলিশ। টানা সাত দিন তারা দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে ভোটের আগের চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবহার করা হবে বডিওর্ন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন। কোনো ভোটকেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ছবি ও তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে। এরপর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, দেশে পুলিশের মোট প্রশাসনিক ইউনিট ৭২টি। এর মধ্যে ৬৪ জেলা ও ৮টি মহানগর রয়েছে। ৩৬টি ইউনিটে ইতোমধ্যে সব বাহিনীর সমন্বয় সভা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাকি ইউনিটগুলোর সভা শেষ হবে। তিনি জানান, নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণে সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। কিছু জেলায় সদস্য সংখ্যা কম থাকায় অন্য জেলা থেকে বাড়তি ফোর্স পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই।
নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য মাঠে রয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মোট সদস্য থাকছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবেন ১১ হাজার ৯১০ জন। তারা গতকালই নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রওনা হয়েছেন।
আনসার সূত্র জানায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে দুজন সদস্য বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে সুরক্ষা অ্যাপে যুক্ত থাকবেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য পাঠাবেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানিয়েছে, সারাদেশে তাদের ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই বিজিবি সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষিত রেখেই বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।
৪৯৫ উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় তারা এককভাবে দায়িত্বে থাকবে। ঝুঁকি বিবেচনায় ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
উপজেলা অনুযায়ী ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাপিড অ্যাকশন টিম, হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা দেবে র্যাব। প্রতিটি সংসদীয় আসনে কমপক্ষে দুটি টহল দল মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে থাকবে দুটি করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দল। র্যাব সদরদপ্তরে ১৫টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত থাকবে।
দেশজুড়ে ২৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মোতায়েনের জন্য ৫০টি টহল দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে সারাদেশে ৭০০টির বেশি টহল দল দায়িত্ব পালন করবে। র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ সদস্য মাঠে থাকবেন। ডগ স্কোয়াডের ১০টি দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সুইপিং ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য মোতায়েন করা হবে। সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৮ দিন তাদের সাড়ে তিন হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী দুর্গম এলাকায় ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫০০ ক্যামেরা বসানো হবে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিমকার্ড থাকবে। ১০ হাজার ক্যামেরা থাকবে অফলাইনে।
কোনো কেন্দ্রে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এসওএস বার্তার মাধ্যমে ক্যামেরা থেকে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। সার্বক্ষণিক ভিডিও ও ছবি দেখার সুযোগ থাকবে। অফলাইন ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পরে যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি থাকছে ৫০০ ড্রোন ও প্রায় ৫০টি ডগ স্কোয়াড।

