অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেশি।
মঙ্গলবার জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রী বা স্বামীদের এক বছরের আয় ও সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়। এই প্রকাশনা সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অধ্যাপক ইউনূসের সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে মূলত সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংকে জমা অর্থ বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া শেয়ারের কারণে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, এসব বৈধ আর্থিক উৎস থেকেই তাঁর মোট পরিসম্পদে এই বৃদ্ধি এসেছে।
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা। আগের বছর যেখানে তাঁর সম্পদ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা, সেখানে এক বছরে তা কমেছে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা। তবে অধ্যাপক ইউনূসের কোনো ঋণ বা দায় না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বাইরে অধ্যাপক ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা। তবে দেশের বাইরে তাঁর স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সরকার ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা’ জারি করে। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের পর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের সম্পদের পূর্ণ বিবরণ জমা দিতে হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা প্রকাশ করা হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদে মোট সদস্য সংখ্যা ২১ জন। এছাড়া বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ আরও চারজন উপদেষ্টা পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে ২৭ জনের সম্পদ বিবরণী এবার প্রকাশ করা হয়েছে।
এই প্রকাশনা সরকারের স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

