ভোরের কুয়াশা কাটতে না কাটতেই বদলে যেতে শুরু করে রাজধানীর চিত্র। ধীরে ধীরে পরিষ্কার আকাশের নিচে ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে গড়ে ওঠে দীর্ঘ লাইন। হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র, চোখেমুখে প্রত্যাশার ঝিলিক—গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিতে সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার পর রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হয়েছেন বহু ভোটার। সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।
বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোট শুরুর আগেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ভেতরে নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যালট বাক্স সিল করা, কাগজপত্র প্রস্তুতসহ সব আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করছেন। প্রতিটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই শেষে তবেই কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা হাসান নামে এক ভোটার জানান, “অনেক দিন পর এমন প্রাণবন্ত পরিবেশে ভোট দিতে এসেছি। সত্যিই ভালো লাগছে।”
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঢাকায় প্রায় ২৬ হাজার ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট এবং ক্রাইম সিন ভ্যান সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সারা দেশে মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনকালীন দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সশস্ত্র সদস্য রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছেন।
নির্বাচনী অপরাধ দ্রুত দমনে মাঠে রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে এবং স্বেচ্ছায় আগত ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক মাঠপর্যায়ে ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি দেশীয় ৮০টি সংস্থার প্রায় ৪৫ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত রয়েছেন।
সব মিলিয়ে কুয়াশা ঢাকা সকালে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ রাজধানীজুড়ে রূপ নিয়েছে গণতন্ত্রের উৎসবে।

