জামায়াতে ইসলামী নেতা ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফলে অসংগতি ধরা পড়লে আইনি ভিত্তি থাকলে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবী করেছেন, আসনে বাতিল হওয়া প্রায় ছয় হাজার ভোটের যৌক্তিকতা যাচাই করা হোক।
গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ডেমোক্রেটিক সিস্টেম ও পার্লামেন্টারি সিস্টেমে নির্বাচনই ক্ষমতা হস্তান্তরের বৈধ পথ। এজন্য আমরা সব সময় নির্বাচনমুখী। এবারের নির্বাচনের স্বচ্ছ ও অবাধ হওয়ার জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি।”
নির্বাচনে জয়ী হননি গোলাম পরওয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট, আর বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮ ভোট।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফল যাচাই করা হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, দুই উপজেলার ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে তাদের নথিতে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, “এই সামান্য ব্যবধানের কারণে বিষয়টি যাচাই করছি। আইনি ভিত্তি থাকলে পুনর্গণনার আবেদন করা হবে।”
তিনি আরো বলেন, “প্রায় ৬ হাজারের বেশি ভোট বাতিল হয়েছে। এগুলো যৌক্তিকভাবে ও বিধি অনুযায়ী বাতিল হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোথাও ওভাররাইটিং, অঙ্কের ভুল বা গণনার ত্রুটি থাকলে সেগুলো আইনানুগভাবে পুনর্গণনার মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।”
নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেড় লক্ষাধিক মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন, যা আমার কাছে বিরাট পাওয়া। জয়-পরাজয় রাজনীতির অংশ হলেও আমি নিজেকে নৈতিকভাবে পরাজিত মনে করি না। কোনো অন্যায়, অসৎ বা জবরদস্তি করিনি।”
তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন চিত্র তৈরি করেছে এবং সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

