চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়ন আবারও আলোচনায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই একটি ইউনিয়ন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনজন সংসদ সদস্য। তিনজনই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। ফল ঘোষণার পর পুরো ইউনিয়নে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচিতরা হলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনের সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহাজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট। বড় ব্যবধানে এই জয়ে নিজ এলাকায় তার অবস্থান আরও শক্ত হলো।
রাঙ্গুনিয়া আসনে জয়ী হয়েছেন তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট। প্রচারণায় হুম্মাম তার বাবা প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক আদর্শ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি নিজেকে সেই ধারার উত্তরসূরি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে জয় পেয়েছেন সাঈদ আল নোমান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শামসুজ্জমান হেলালী পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৯১৯ ভোট।
সাঈদ আল নোমান বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানর ছেলে। তিনি ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তার বাবা আগেও এ এলাকা থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গহিরা ইউনিয়নের এই প্রভাব নতুন নয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এখান থেকে তিনজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন তারা সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
সেবার চট্টগ্রাম-৬ আসনে টানা পঞ্চমবার জয় পান এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। একই ইউনিয়নের বক্সে আলী চৌধুরী বাড়ি থেকে নির্বাচিত হন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম-৯ আসনে। একই গ্রামের রকিব উদ্দিন মুন্সি বাড়ির সন্তান মহিউদ্দীন বাচ্চু চট্টগ্রাম-১০ আসনে সংসদ সদস্য হন।
টানা দুই নির্বাচনে দুই ভিন্ন দলের তিনজন করে সংসদ সদস্য উপহার দিয়ে গহিরা ইউনিয়ন আবারও প্রমাণ করল তার রাজনৈতিক গুরুত্ব।

